যশোর ০১:২২ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ০৬ ডিসেম্বর ২০২৫, ২১ অগ্রহায়ণ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের সেমিনার অনুষ্ঠিত ভবদাহ সমস্যার সমাধানে আন্তর্জাতিক সহযোগিতার একটি নতুন সম্ভাবনা : যশোরের পানিবন্দি জনজীবনে নতুন আশার আলো স্মার্টফোনে বন্দী যশোরের নতুন প্রজন্ম, ভুলে যাচ্ছে নাটক, সংগীত ও আবৃত্তির মঞ্চ সোনালী আঁশে স্বপ্ন বুনছেন যশোরের চাষিরা যশোরের সবুজ বিপ্লবের প্রতিক জিয়া খাল আজ মৃত, হারাতে বসেছে চিহ্নটুকুও যশোরে সড়ক দুর্ঘটনায় ভ্যানযাত্রী নিহত, চালক আহত লাউখালী বাওড় পাড়ের ৫৮০ জনের স্বপ্ন পরিণত হচ্ছে দুঃস্বপ্নে নিরাপদ ইফতারি প্রস্তুতিতে জেলা নিরাপদ খাদ্য অফিসের প্রশিক্ষণ যশোর ডিবির আরও একটি বড় সাফল্য, সিনেমাটিক অভিযানে আটক ১৪ যশোর সেক্রেড হার্ট মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতার পুরস্কার বিতরন

ভবদাহ সমস্যার সমাধানে আন্তর্জাতিক সহযোগিতার একটি নতুন সম্ভাবনা : যশোরের পানিবন্দি জনজীবনে নতুন আশার আলো

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০২:২৩:২৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৭ অগাস্ট ২০২৫ ১৪১ বার পড়া হয়েছে

ডি এইচ দিলসান : যশোরের ভবদাহ এলাকা দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের একটি দীর্ঘদিনের পানিবদ্ধ ও উপেক্ষিত জনপদ। বছরের পর বছর ধরে বর্ষা মৌসুমে জলাবদ্ধতায় নিমজ্জিত হয়ে থাকে কয়েক হাজার একর জমি ও লক্ষাধিক মানুষের বসতভিটা। কৃষি, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, যোগাযোগ সবকিছুই থমকে যায় বৃষ্টির পানিতে। গত কয়েক দশকে নদীর প্রবাহ বন্ধ হয়ে যাওয়া, অপরিকল্পিত স্লুইসগেট নির্মাণ এবং পলি জমে খালগুলোর মুখ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় এখানে পানিবদ্ধতা চরম আকার ধারণ করেছে। এক সময় তিন ফসলি জমিতে এখন হাঁটু পানি, কোথাও কোমর সমান। পাম্পিং করে পানি সরানোর চেষ্টা হলেও তা পর্যাপ্ত নয়। ফলে বছরজুড়ে দুঃসহ অবস্থায় দিন কাটাচ্ছে মানুষজন। এই স্থবিরতার চিত্র এবার পৌঁছাল আন্তর্জাতিক পরিসরে। যদিও ১৯৯০ দশক থেকেও কিছু আন্তর্জাতিক মহল ভবদাহ নিয়ে কাজ করেছে, তবে এবার স্থায়ী ও টেকসই সমাধানে কাজ করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে চিনের চাংজিয়াং পানি সম্পদ কমিশন। ইতমধ্যে তারা যশোরের ভবদাহ অঞ্চল পরিদর্শন করেছেন। বাংলাদেশ সরকারের পানি সম্পদ বিভাগের উচ্চ পর্যায়ের প্রতিনিধি দলের সাথে একের পর এক বৈঠকও করেছে প্রতিনিধি দলটি।
বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড জানান চাংজিয়াং জল সম্পদ কমিশনের প্রধান পরিকল্পনাকারী, জু ঝাওমিং এর নেতৃত্বে এ কর্মকান্ডে আরো ছিলেন সিআইএসপিডিআর কর্পোরেশন (চ্যাংজিয়াং ইনস্টিটিউট অফ সার্ভে, প্লানিং, ডিজাইন অ্যান্ড রিসার্চ) এর প্রধান এবং চীনের পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়-এর আন্তর্জাতিক বিভাগের প্রতিনিধি। তাদের সাথে সমন্বয় করেন বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডেও মহাপরিচালক এনায়েত উল্লাহ, তাদের সাথে কাজ করছেন বাংলাদেশ পানি সম্পদ পরিকল্পনা সংস্থা, বাংলাদেশ পানি নিষ্কাশন প্রক্রিয়া-নির্ধারণ বিষয়ক দল ও নদী গবেষণা ইনস্টিটিউট।
চীনা প্রতিনিধি দল মূলত ভবদাহ এলাকার পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থার আধুনিকায়ন ও দীর্ঘমেয়াদী সমাধানে সম্ভাব্য প্রযুক্তিগত সহযোগিতা ও পরামর্শমূলক কার্যক্রম পরিচালনার আগ্রহ প্রকাশ করেছে। তারা জানিয়েছেন, প্রথম ধাপে একটি ফিজিবিলিটি স্টাডি চালানো হবে, যার ভিত্তিতে ভবিষ্যৎ প্রকল্পের স্কোপ নির্ধারণ করা হবে।
বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডেও মহাপরিচালক এনায়েত উল্লাহ বলেন, ভবদাহ সমস্যা মূলত যশোর, সাতক্ষীরা, খুলনা অঞ্চলের জন্য এক দীর্ঘস্থায়ী দুর্ভোগ। ভৈরব ও কপোতাক্ষ নদীর নাব্যতা হ্রাস, পলি জমে পানি নিষ্কাশনের অক্ষমতা, এবং জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে বন্যা ও জলাবদ্ধতা ভয়াবহ আকার নিয়েছে। এ সমস্যা এককভাবে বাংলাদেশের পক্ষে সমাধান করা কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে। এখানেই আন্তর্জাতিক সহযোগিতার নতুন সম্ভাবনা তৈরি হতে পারে।
তিনি বলেন বাংলাদেশ চীন যৌথভাবে একটি গবেষণা ও প্রযুক্তিগত সহযোগিতা কেন্দ্র স্থাপনের সম্ভাবনা খতিয়ে দেকছে। আমরা আমাদের দিক থেকে চেষ্টা করছি। তিনি বলেন চীনের কারিগরি সহায়তায় প্রোন জরিপ, স্যাটেলাইট ডেটা ব্যবহার ও হাইড্রোলজিক্যাল মডেলিং চালু করার পরিকল্পনাও করছে। তবে তারা দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের জলাবদ্ধতা সমস্যা সমাধানে পাইলট প্রজেক্ট করার বিষয়ে নীতিগত সমর্থন দিয়েছে। একই সাথে দীর্ঘমেয়াদে চীনের অর্থায়ন ও প্রযুক্তিগত সহায়তায় নদী প্রশিক্ষণ ও নিষ্কাশন ব্যবস্থাপনা প্রকল্প নেওয়ার বিষয়ে প্রাথমিক সমঝোতা হয়েছে। উভয় দেশ সম্মত হয় যে প্রতি বছর যৌথ সভা হবে এবং বাস্তবায়ন অগ্রগতি পর্যালোচনা করা হবে।
স্থানীয় কৃষক কাদেও গাজি বলেন, “পাঁচ বছর ধইরা আমাগো জমি পানির নিচে। কারও নজর ছিল না। চায়নার লোকজন আইছে দেখে মনে হইতেছে কেউ বুঝতেছে আমাগো কষ্ট।”
একই সঙ্গে মমতাজ বেগম, এক গৃহবধূ জানান,“ছেলে-মেয়ে স্কুলে যাইতে পারে না। গলা পানিতে চলতে হয়। এইবার যদি আসল কাজ হয়, অনেক ভালো হইবো।
ভবদাহ পানি নিস্কাসন সংগ্রাম কমিটির অন্যতম নেতা গাজী হামিদ বলেন ভবদাহ যেন এক দীর্ঘস্থায়ী যন্ত্রণার নাম। এই যন্ত্রণা থেকে মুক্তির স্বপ্ন যুগ যুগ ধরে দেখে আসছেন এই এলাকার মানুষ। চীনা প্রতিনিধি দলের আগমন হয়তো সেই স্বপ্নে কিছুটা বাস্তবতার ছোঁয়া এনে দিয়েছে। তবে শুধু পরিদর্শন নয়, প্রয়োজন দ্রুত বাস্তবায়নযোগ্য পদক্ষেপ ও অন্তরিকতা। যদি এই আন্তর্জাতিক সহযোগিতা বাস্তবে রূপ নেয়, তবে ভবদাহের পানিতে হয়তো একদিন ভেসে উঠবে মুক্তির নৌকা।
যশোরের জেলা প্রশাসক মো: আজাহারুল ইসলাম বলেন, চীনের প্রতিনিধি দল তাদের প্রাথমিক পর্যায়ের সফরে ভবদাহের বাস্তব অবস্থা প্রত্যক্ষ করেছেন। আমরা আশাবাদী, তার প্রযুক্তিগত সহায়তা ও দীর্ঘমেয়াদী সমাধানে কার্যকর ভূমিকা রাখবেন। তিনি বরেন চীনের সহায়তায় ভবদাহ সমস্যার সমাধান হলে তা হবে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের জন্য একটি মাইলফলক হবে।
উল্লেখ্য এর আগে ১৯৯০ এর দশক থেকে বাংলাদেশ সরকার ও বিশ্বব্যাংক, এশিয়ান ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক (অউই) ভবদাহ এলাকায় পানি নিষ্কাশন প্রকল্প নিয়ে কাজ করেছে।
বিশেষ করে খুলনা-যশোর ড্রেনেজ পুনর্বাসন প্রকল্প –অর্থায়নে বিশ্বব্যাংক ও ডেনমার্কের উন্নয়ন সংস্থা। ২০০০ এর পর থেকে জাপান ইন্টারন্যাশনাল কো-অপারেশন এজেন্সি দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের নদী খনন ও পানি ব্যবস্থাপনা নিয়ে গবেষণা করেছে। নেদারল্যান্ডস সরকার (যারা পানিব্যবস্থাপনায় বিশ্বখ্যাত) কয়েক দফা প্রতিনিধি দল পাঠিয়েছে বাংলাদেশের উপকূলীয় অঞ্চলের ড্রেনেজ সংকট বোঝার জন্য। জাতিসংঘ ও আন্তর্জাতিক এনজিও জলাবদ্ধ এলাকা ব্যবস্থাপনা নিয়ে কিছু কার্যক্রম চালিয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত কোনো স্থায়ী আন্তর্জাতিক উদ্যোগ হয়নি, সবই প্রকল্পমুখী বা জরিপভিত্তিক। মূলত সরকার-নেতৃত্বাধীন হলেও বিদেশি সংস্থা অর্থ ও প্রযুক্তি দিয়েছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ভবদাহ সমস্যার সমাধানে আন্তর্জাতিক সহযোগিতার একটি নতুন সম্ভাবনা : যশোরের পানিবন্দি জনজীবনে নতুন আশার আলো

আপডেট সময় : ০২:২৩:২৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৭ অগাস্ট ২০২৫

ডি এইচ দিলসান : যশোরের ভবদাহ এলাকা দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের একটি দীর্ঘদিনের পানিবদ্ধ ও উপেক্ষিত জনপদ। বছরের পর বছর ধরে বর্ষা মৌসুমে জলাবদ্ধতায় নিমজ্জিত হয়ে থাকে কয়েক হাজার একর জমি ও লক্ষাধিক মানুষের বসতভিটা। কৃষি, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, যোগাযোগ সবকিছুই থমকে যায় বৃষ্টির পানিতে। গত কয়েক দশকে নদীর প্রবাহ বন্ধ হয়ে যাওয়া, অপরিকল্পিত স্লুইসগেট নির্মাণ এবং পলি জমে খালগুলোর মুখ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় এখানে পানিবদ্ধতা চরম আকার ধারণ করেছে। এক সময় তিন ফসলি জমিতে এখন হাঁটু পানি, কোথাও কোমর সমান। পাম্পিং করে পানি সরানোর চেষ্টা হলেও তা পর্যাপ্ত নয়। ফলে বছরজুড়ে দুঃসহ অবস্থায় দিন কাটাচ্ছে মানুষজন। এই স্থবিরতার চিত্র এবার পৌঁছাল আন্তর্জাতিক পরিসরে। যদিও ১৯৯০ দশক থেকেও কিছু আন্তর্জাতিক মহল ভবদাহ নিয়ে কাজ করেছে, তবে এবার স্থায়ী ও টেকসই সমাধানে কাজ করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে চিনের চাংজিয়াং পানি সম্পদ কমিশন। ইতমধ্যে তারা যশোরের ভবদাহ অঞ্চল পরিদর্শন করেছেন। বাংলাদেশ সরকারের পানি সম্পদ বিভাগের উচ্চ পর্যায়ের প্রতিনিধি দলের সাথে একের পর এক বৈঠকও করেছে প্রতিনিধি দলটি।
বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড জানান চাংজিয়াং জল সম্পদ কমিশনের প্রধান পরিকল্পনাকারী, জু ঝাওমিং এর নেতৃত্বে এ কর্মকান্ডে আরো ছিলেন সিআইএসপিডিআর কর্পোরেশন (চ্যাংজিয়াং ইনস্টিটিউট অফ সার্ভে, প্লানিং, ডিজাইন অ্যান্ড রিসার্চ) এর প্রধান এবং চীনের পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়-এর আন্তর্জাতিক বিভাগের প্রতিনিধি। তাদের সাথে সমন্বয় করেন বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডেও মহাপরিচালক এনায়েত উল্লাহ, তাদের সাথে কাজ করছেন বাংলাদেশ পানি সম্পদ পরিকল্পনা সংস্থা, বাংলাদেশ পানি নিষ্কাশন প্রক্রিয়া-নির্ধারণ বিষয়ক দল ও নদী গবেষণা ইনস্টিটিউট।
চীনা প্রতিনিধি দল মূলত ভবদাহ এলাকার পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থার আধুনিকায়ন ও দীর্ঘমেয়াদী সমাধানে সম্ভাব্য প্রযুক্তিগত সহযোগিতা ও পরামর্শমূলক কার্যক্রম পরিচালনার আগ্রহ প্রকাশ করেছে। তারা জানিয়েছেন, প্রথম ধাপে একটি ফিজিবিলিটি স্টাডি চালানো হবে, যার ভিত্তিতে ভবিষ্যৎ প্রকল্পের স্কোপ নির্ধারণ করা হবে।
বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডেও মহাপরিচালক এনায়েত উল্লাহ বলেন, ভবদাহ সমস্যা মূলত যশোর, সাতক্ষীরা, খুলনা অঞ্চলের জন্য এক দীর্ঘস্থায়ী দুর্ভোগ। ভৈরব ও কপোতাক্ষ নদীর নাব্যতা হ্রাস, পলি জমে পানি নিষ্কাশনের অক্ষমতা, এবং জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে বন্যা ও জলাবদ্ধতা ভয়াবহ আকার নিয়েছে। এ সমস্যা এককভাবে বাংলাদেশের পক্ষে সমাধান করা কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে। এখানেই আন্তর্জাতিক সহযোগিতার নতুন সম্ভাবনা তৈরি হতে পারে।
তিনি বলেন বাংলাদেশ চীন যৌথভাবে একটি গবেষণা ও প্রযুক্তিগত সহযোগিতা কেন্দ্র স্থাপনের সম্ভাবনা খতিয়ে দেকছে। আমরা আমাদের দিক থেকে চেষ্টা করছি। তিনি বলেন চীনের কারিগরি সহায়তায় প্রোন জরিপ, স্যাটেলাইট ডেটা ব্যবহার ও হাইড্রোলজিক্যাল মডেলিং চালু করার পরিকল্পনাও করছে। তবে তারা দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের জলাবদ্ধতা সমস্যা সমাধানে পাইলট প্রজেক্ট করার বিষয়ে নীতিগত সমর্থন দিয়েছে। একই সাথে দীর্ঘমেয়াদে চীনের অর্থায়ন ও প্রযুক্তিগত সহায়তায় নদী প্রশিক্ষণ ও নিষ্কাশন ব্যবস্থাপনা প্রকল্প নেওয়ার বিষয়ে প্রাথমিক সমঝোতা হয়েছে। উভয় দেশ সম্মত হয় যে প্রতি বছর যৌথ সভা হবে এবং বাস্তবায়ন অগ্রগতি পর্যালোচনা করা হবে।
স্থানীয় কৃষক কাদেও গাজি বলেন, “পাঁচ বছর ধইরা আমাগো জমি পানির নিচে। কারও নজর ছিল না। চায়নার লোকজন আইছে দেখে মনে হইতেছে কেউ বুঝতেছে আমাগো কষ্ট।”
একই সঙ্গে মমতাজ বেগম, এক গৃহবধূ জানান,“ছেলে-মেয়ে স্কুলে যাইতে পারে না। গলা পানিতে চলতে হয়। এইবার যদি আসল কাজ হয়, অনেক ভালো হইবো।
ভবদাহ পানি নিস্কাসন সংগ্রাম কমিটির অন্যতম নেতা গাজী হামিদ বলেন ভবদাহ যেন এক দীর্ঘস্থায়ী যন্ত্রণার নাম। এই যন্ত্রণা থেকে মুক্তির স্বপ্ন যুগ যুগ ধরে দেখে আসছেন এই এলাকার মানুষ। চীনা প্রতিনিধি দলের আগমন হয়তো সেই স্বপ্নে কিছুটা বাস্তবতার ছোঁয়া এনে দিয়েছে। তবে শুধু পরিদর্শন নয়, প্রয়োজন দ্রুত বাস্তবায়নযোগ্য পদক্ষেপ ও অন্তরিকতা। যদি এই আন্তর্জাতিক সহযোগিতা বাস্তবে রূপ নেয়, তবে ভবদাহের পানিতে হয়তো একদিন ভেসে উঠবে মুক্তির নৌকা।
যশোরের জেলা প্রশাসক মো: আজাহারুল ইসলাম বলেন, চীনের প্রতিনিধি দল তাদের প্রাথমিক পর্যায়ের সফরে ভবদাহের বাস্তব অবস্থা প্রত্যক্ষ করেছেন। আমরা আশাবাদী, তার প্রযুক্তিগত সহায়তা ও দীর্ঘমেয়াদী সমাধানে কার্যকর ভূমিকা রাখবেন। তিনি বরেন চীনের সহায়তায় ভবদাহ সমস্যার সমাধান হলে তা হবে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের জন্য একটি মাইলফলক হবে।
উল্লেখ্য এর আগে ১৯৯০ এর দশক থেকে বাংলাদেশ সরকার ও বিশ্বব্যাংক, এশিয়ান ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক (অউই) ভবদাহ এলাকায় পানি নিষ্কাশন প্রকল্প নিয়ে কাজ করেছে।
বিশেষ করে খুলনা-যশোর ড্রেনেজ পুনর্বাসন প্রকল্প –অর্থায়নে বিশ্বব্যাংক ও ডেনমার্কের উন্নয়ন সংস্থা। ২০০০ এর পর থেকে জাপান ইন্টারন্যাশনাল কো-অপারেশন এজেন্সি দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের নদী খনন ও পানি ব্যবস্থাপনা নিয়ে গবেষণা করেছে। নেদারল্যান্ডস সরকার (যারা পানিব্যবস্থাপনায় বিশ্বখ্যাত) কয়েক দফা প্রতিনিধি দল পাঠিয়েছে বাংলাদেশের উপকূলীয় অঞ্চলের ড্রেনেজ সংকট বোঝার জন্য। জাতিসংঘ ও আন্তর্জাতিক এনজিও জলাবদ্ধ এলাকা ব্যবস্থাপনা নিয়ে কিছু কার্যক্রম চালিয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত কোনো স্থায়ী আন্তর্জাতিক উদ্যোগ হয়নি, সবই প্রকল্পমুখী বা জরিপভিত্তিক। মূলত সরকার-নেতৃত্বাধীন হলেও বিদেশি সংস্থা অর্থ ও প্রযুক্তি দিয়েছে।